আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। পাড়ার সমবয়সী এক মেয়ে আবাসিক মহিলা মাদরাসায় পড়তো। কিছুদিন পর জানতে পারি যে, মেয়েটা প্রেগন্যান্ট! মাদ্রাসার পরিচালকের ছেলের দ্বারা গর্ভবতী হয়েছে।
আমার চেনাজানার মধ্যে পাড়ার প্রথম কোনো মেয়ে সম্পর্কে জেনেছিলাম, যে কী না আবাসিক মহিলা মাদরাসায় পড়ে। সেই তখন, ছোটবেলা থেকেই “আবাসিক মহিলা মাদরাসা” শব্দটা আমার কাছে খুব নেতিবাচক মনে হয়।
আমি তো আমার মেয়েকে কোনোভাবোই “আবাসিক মহিলা মাদরাসা”য় পড়ানোর কথা চিন্তাও করতে পারি না। নিজের ক্ষেত্রেও কখনোই “আবাসিক মহিলা মাদরাসা”র ছাত্রীকে বিয়ের কথা কল্পনাও করিনি।
এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। মাদরাসা কাঠামোর সংস্কার অতীব জরুরি। কওমি মাদ্রাসা আছে বলেই আমরা বিশুদ্ধ ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরেছি। ওলামায়ে কেরামের মেহনত না থাকলে আমার মতো বামপন্থী আন্দোলন থেকে বড় হওয়া ছেলে আস্তিক থাকতো না।
মাদরাসা অবশ্যই জরুরি। কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। তবে যেভাবে চলতেছে, এভাবেও চলতে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশে এমন কোনো জেলা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যেখানে মাদরাসা বলাৎকার হয়নি। কিছু মিথ্যা অভিযোগ থাকলেও বাস্তবতা অস্বীকারের সুযোগ নেই।
মাদরাসা বোর্ডগুলোকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমি জোর দিয়ে বলছি, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। সময় থাকতেই রিফর্ম জরুরি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বোঝার সুযোগ করে দিন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন